নবজাতক শিশুর নাভির যত্ন কীভাবে নেবেন? ভুল ধারণা ও সঠিক নিয়ম | Newborn Navel Care

 নবজাতকের নাভির যত্ন সংক্রমণ, শুকানো ও করণীয়

নবজাতকের নাভির যত্ন সংক্রমণ, শুকানো ও করণীয়

নতুন বাবা-মা হিসেবে শিশুর নাভি নিয়ে চিন্তিত হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। জন্মের পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ শিশুর নাভি খুব সংবেদনশীল থাকে। এই সময়ে সঠিক যত্ন না নিলে নাভিতে ইনফেকশন বা সংক্রমণ হতে পারে। আমাদের সমাজে নাভির যত্ন নিয়ে অনেক কুসংস্কার রয়েছে, যেমন নাভিতে তেল দেওয়া বা হলুদ লাগানো। বিজ্ঞানের আলোকে চলুন জেনে নিই শিশুর নাভির সঠিক যত্ন নেওয়ার সহজ উপায়গুলো।

Gentle Newborn Navel Care – Clean & Dry Umbilical Stump

শিশুর নাভিতে ইনফেকশন কেন হয়? আপনার শিশুর নাভিতে ইনফেকশন (Omphalitis) হতে পারে যদি:

  • নাভির চারপাশ ভেজা বা অপরিষ্কার থাকে।

  • ভেজা কাপড় বা ডায়াপার নাভির সাথে লেগে থাকে।

  • ময়লা হাতে শিশুর নাভি ধরা হয়।

কীভাবে বুঝবেন নাভিতে ইনফেকশন হয়েছে?

  • নাভির চারপাশ লাল হয়ে ফুলে যাওয়া।

  • দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ বা বেশি রক্ত বের হওয়া।

  • শিশুর জ্বর আসা, অস্থির হয়ে কাঁদা বা বুকের দুধ টেনে না খাওয়া।


বাড়িতে বসে শিশুর নাভির সঠিক যত্ন নেওয়ার ৫টি নিয়ম 

১. শুকনো রাখুন: গোসল করানোর পর একটি নরম ও পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে আলতো করে নাভির জায়গাটা মুছে একদম শুকনো রাখুন।

 ২. হাত পরিষ্কার রাখুন: বাচ্চাকে বা তার নাভি ধরার আগে অবশ্যই সাবান দিয়ে নিজের হাত ভালো করে ধুয়ে নিন। 

৩. ডায়াপার পরানোর নিয়ম: ডায়াপার পরানোর সময় খেয়াল রাখুন যেন তা নাভির নিচে থাকে। ডায়াপার দিয়ে নাভি ঢেকে বা চেপে রাখবেন না। 

৪. তেল-পাউডার নিষিদ্ধ: নাভিতে কোনো ধরনের সরিষার তেল, হলুদ, লোশন বা ক্রিম লাগাবেন না। এগুলো শিশুর জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। শুধুমাত্র ডাক্তারের পরামর্শে অ্যান্টিসেপ্টিক ব্যবহার করতে পারেন। 

৫. খেয়াল রাখুন: প্রতিদিন খেয়াল করুন নাভি ঠিকমতো শুকাচ্ছে কিনা, বা কোনো দুর্গন্ধ বের হচ্ছে কিনা।


কুসংস্কার থেকে দূরে থাকুন অনেকে মনে করেন নাভিতে তেল দিলে শিশুর পেট ব্যথা সারে বা চোখ সুন্দর হয়। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। নাভি শুকাতে এবং সুস্থ রাখতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাই যথেষ্ট।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন? সাধারণত ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যেই শিশুর নাভি শুকিয়ে নিজে থেকেই পড়ে যায়। তবে যদি দেখেন নাভি থেকে দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ আসছে, চারপাশ লাল হয়ে ফুলে গেছে কিংবা শিশুর জ্বর এসেছে, তবে দেরি না করে দ্রুত একজন শিশু বিশেষজ্ঞের (Pediatrician) পরামর্শ নিন।





Post a Comment

Previous Post Next Post